Friday, June 9, 2017

গল্প ধার





৯ই জুন, ২০১৭
রাতঃ ৯.০০ মিনিট

কেউ আমাকে একটা গল্প ধার দিবেন? আমার মাঝে মাঝে গল্প বা এ জাতীয় কিছু একটা লিখতে মন চায়। কিন্তু কিছুই লিখতে পারি না। আসলে যখন গল্প উপন্যাস পড়ি, তখন মাথায় শুধু মনে হয় একটা কিছু লিখি। কিন্তু লিখতে গেলে কিছুই মাথায় আসে না। মাথা পুরোপুরি খালি খালি মনে হয়। কেন জানি না এমন হয়।

যেহেতু কিছু একটা লিখতে মন চাচ্ছিল তা ভাবলাম একটা গল্প ধার করি। লেখকরা তো প্রায়ই অন্যের গল্প লেখেন। নিজের জিবনের কথার চেয়ে তো অন্যের গল্পই বেশি করেন। হয়ত এদের মধ্যে বেশির ভাগ গুলারই অস্তিত পৃথিবীতে নেই। কিন্তু এমন কিছু তো আছে, যার গল্প গুলো পৃথিবীর কারও সাথে বেশি মিলে যায়। অথবা অন্য একজন কে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। সেই গল্প গুলো কি ধার করা নয়?

আসলে গল্প তো সবই ধার করে লিখতে হয়। নিজের জিবনের গল্প আর কত লিখা যায়। আর লিখলেও তো ওগুলা আত্মকাহীনি হয়ে যায়। গল্প আর থাকে কোথায়? গল্প লিখতে গেলেই অন্যের জীবনের কাহিনী ধার করা।

যাক সে কথা। যা বলতেছিলাম কেউ কি একটা গল্প দেবে, কিছু একটা লিখবো...?

Saturday, June 3, 2017

বই পড়া


৩রা জুন, ২০১৭
দুপুরঃ ৩.১৭ মিনিট

কাল দুপুরে একা বসে ছিলাম। কিছুই ভাল লাগছিল না। কি করবো বুজতেছিলাম না। কিভাবে সময় কাটানো যায় ভাবতেছিলামভাল লাগার মতো কিছু পাচ্ছিলাম না। আমি সাধারনত অনেক মুভি দেখি। কিন্তু মাঝে মাঝে মুভি দেখতে ভাল লাগে না। যদিও দিনে পাঁচ-ছয়টার বেশি মুভি দেখে আমার অভ্যাস আছে। আমি আগে হলিউডের মুভি বেশি পছন্দ করতাম। কিন্তু এখন মনে হয়ঃ হলিউডের মুভিতে সুপার হিউম্যান, কল্পনীয়, এক্সটা অনেক কিছু থাকে রিয়েলিটি খুব একটা থাকে না। কাহিনী কাহিনীই মনে হয়, আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মিলে না। সেদিক দিয়ে হিন্দী মুভি গুলেতে রিয়েলিটি বেশি থাকে। মনে হয় এমন কিছু একটা তো ঘটতেও পারতো। কিন্তু তখন বাংলা, হিন্দী, ইংলিশ কোন মুভি দেখতেই ভাল লাগছিল না।

আমার সময় কাটানোর আর একটা বড় উপায় হল প্রোগ্রামিং করা। আমি যে সময় কাটানোর জন্য প্রোগ্রামিং করি তা না। প্রোগ্রামিং করতে গেলে আমার সময় যে কোন দিক দিয়ে চলে যায় বুজতে পারি না। কালও  প্রোগ্রামিং করতেও ভাল লাগছিল না। মাঝে মাঝে মাথাটা খালি হয়ে যায়। কোন প্রবলেমই মাথায় ঢুকে না। কোন সলিউশান মাথায় আসে না। কাল আসলে মনটাই বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিল। কোন কিছুতেই মন বসছিল না।

অতঃপর আমার মনে হল বই পড়া যায়। আমার কয়েকটা হবির মধ্যে আছেঃ মুভি দেখা, প্রোগ্রামিং করা, বই পড়া। কিন্তু আমি তখন আবিষ্কার করলাম বই পড়া আমার সবচেয়ে পছন্দের শখ। তখন কিছুই করতে ভাল লাগছিল না, কিন্তু বই পড়তে খারাপ লাগছিল না। বরং খুব উপভোগ করছিল। আসলে বই পড়তে গেলে আর একটা কাহিনীর ভেতরে এত মনোযোগ থাকে যে, আমার বর্তমান অবস্থা মনে থাকে না। আগে আমি বই পড়ার প্রতি এত পাগল ছিলাম যে বলার বাহিরে। অথচ এখন মোবাইল, কম্পিউটার আসার পড়ে আমি এত ব্যস্ত হয়ে পরেছি যে। বই পড়ার টাইম পাই না। আমি যে কোন সময় বই পড়তে পারি। হার্ডকপি না হলেও সফটকপি পড়তে আমার খারাপ লাগে না। আসলে বই পড়া এত উপভোগ করি যে বই পড়াটাই আসল মনে হয়। পিডিএফ না বই এটা প্রবলেম হয় না। তবে ভাল গল্পের বই হতে হবে। অথবা পছন্দের কোন লেখকের বই। বই পড়া আসলেই আমার বেস্ট হবি...<3

Sunday, April 16, 2017

হুমায়ূন আহমেদ




১৬ই এপ্রিল ২০১৭
রাতঃ ১.৫০ মিনিট

গত কয়েকদিন ধরে হুমায়ূন আহমেদ এর বই পড়ছি। উনার লেখার স্টাইলটা ধরার চেষ্টা করছি। উনি তার প্রায় উপন্যাসে সাধারনত একটা মধ্যবিত্ত পরিবার নিয়ে কাহিনী লিখতেন। ওই পরিবারের আশেপাশে সব সময় একটা ধনী পরিবার থাকে। আর যে জিনিসটা গুরুত্বপূর্ন ওইটা হল, উনি সাধারনত তার সব নায়িকাকে অতি সুন্দরী হিসাবে উপস্থাপন করেন। প্রতি লেখকেরই একটা আলাদা স্টাইল থাকে। যেমন শরৎচন্দ্র মেয়েদের দুঃখ দর্দশা নিয়ে বেশি লিখতেন। সমরেশ মজুমদারও মেয়েদের নিয়ে লিখতেন, তবে তার উপন্যাসে দেশ-বিভাগ ও রাজনিতি কিছুটা থাকতো(অথবা আমি যেগুলা পড়েছি ওইগুলাতে ছিল।)

হুমায়ূন আহমেদ এর উপন্যাস একটু বড় হলেই মানুষ মারার ধুম লেগে যায়(আমার মতে)। উনি প্রায়ই একজন বুড়ো মানুষকে মেরে ফেলেন, মারার আগে তাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মরার পর পাঠকদের মনে অনেকটা সমবেদনা সৃষ্টি হয়। এটা অনেকটা “গেইম অফ থ্রোন্স” এর মত। আমার এক বন্ধু এই সিরিজ সর্ম্পকে বলে, “গেইম অফ থ্রোন্সএ একটা চরিত্রকে খুব বড় করে তোলে। মনে হয় তার হাতে অনেক পাওয়ার। তারপর কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ করে ওই চরিত্র মরে যায়। দর্শকরা বড় ধরনের একটা শক খায়। এতে অনেক টুইস্ট তৈরি হয়। তাই গেইম অফ থ্রোন্স অনেক জনপ্রিয় একটা সিরিজ।”

যদিও হুমায়ূন আহমেদ এর উপন্যাসে প্রধান চরিত্র উপন্যাসের মাঝে দিয়ে কখনও মরে যায় না। তবে অনেক সময় শেষে মরে যায়। এতে উপন্যাস পড়ার পরও একটা মায়া লেগে থাকে। আসলে হুমায়ূন আহমেদ খুব চালাক লেখক। তিনি খুব ভালো করেই জানতেন পাঠকরা কি পছন্দ করে। পাঠকদের মনে কিভাবে মায়া তৈরি করা যায়। তাইতো হুমায়ূন আহমেদ আমার খুব পছন্দের একজন লেখক...<3