Thursday, March 26, 2020

একটি বিকেল ও আমার অনুভুতি



২৬ই মার্চ, ২০২০
সন্ধ্যা: ৭.০৩ মিনিট 

বহু বহু দূরে একটি নব নির্মিত বাড়ির ছাঁদে দুজন দাড়িয়ে আছে। তাদেরকে দেয়াশালাই এর দুটো কাঠির মত মনে হচ্ছে। ছাঁদের এক পাশে পিলারের রড গুলো বের হয়ে আছে। অন্য পাশে চিলে কোঠায় দাড়িয়ে তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

অপেক্ষাকৃত কম দূরের একটা বিল্ডিং এর ছাঁদে পানির টাংকিতে দুজন বসে আছে। তাদের সামনে অনেকটা খোলা জায়গা। তারা হয়ত দুই বন্ধু। পড়ন্ত বিকালে ছাঁদে বসে দুইজন আড্ডা দিচ্ছে।

তাদের পাশেই অন্য একটা বিল্ডিং এর চতুর্থ তালার বেলকনিতে আরও দুজন। এক বাবা তার ছোট্ট সন্তানকে বুকে নিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে। হয়ত সন্তানের সামনের দিনগুলা কেমন কাটবে তা নিয়ে ভাবছে। সে দাড়িয়ে আছে অনেক অনেকক্ষন ধরে।

আমি আগে কখনো খেয়াল করিনি, একটু দূরে একটি বাসার ছাঁদে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এটা কি আগেরই ছিল, নাকি আজ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উড়িয়েছে?

একটা বাসার ছাঁদ বেশ বড়। অনেক বড়। দুই-তিন তলা দালানের উপর ছাঁদটা। ওই ছাঁদটায় সবচেয়ে বেশি মানুষজন। অনেকগুলা পিচ্চি। ওরা খেলছে, দৌড়াচ্ছে, ঘুড়ি উড়াচ্ছে। জায়গাটা একটা বড় মাঠের মত। ওখানে যারা খেলা করছে, তারা সবাই হয়ত ওই বাসার ছেলে মেয়ে না। পাশের বাসার থেকে ওদের সাথে খেলতে আসছে তাদের সঙ্গী সাথীরা। এই গাড়ি-ঘোড়া আর বড় বড় দালান-কোঠার শহরে একটু খোলা জায়গা কই? একটা খেলার মাঠ কোথায় মিলে?

আশেপাশের কয়েকটা বিল্ডিং বেশ চকচকে। নতুন রঙ করা। বেশ উচু উচু। দশ-বার তলা। প্রায়গুলো বিল্ডিং এর জানালার কার্নিসে এসি সেট করা। আবার কয়েকটা বেশ পুরুনো বিল্ডিং। রঙ উঠে গেছে। অবহেলা অযত্নে ছাদের গাছ গুলো ঝোপঝাড়ে পরিনত হচ্ছে। আছে কয়েকটা নতুন বিল্ডিং, শুধু মাত্র ছাঁদ গুলো তুলে দিয়েছে। ভেতরটা এখনো পুরুপুরি ফাঁপা, ফাকা হয়ে আছে।

বাসার সামনের রাস্তাটা আজ বড়ই নিরব। অনেকক্ষন পরে পরে দুই একটা সাইকেল বা রিকশা যাচ্ছে। অথচ এই রাস্তাটা অত্যন্ত ব্যস্ত। রাত দুইটা-চারটা পযর্ন্ত ভারী ট্রাক চলে।

আজ প্রায় অনেকগুলা বাসার ছাঁদেই বেশ কিছু মানুষ জন। কেউ গল্প করছে, কেউ আশেপাশে দেখছে, আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেপিচ্চি বাচ্চারা খেলাধুলা করছে। তারা কি প্রতিদিনই বিকালে বাসার ছাঁদে আসে? না আমার মত কোন এক বন্ধের দিনে, অবসর বিকালে সময় কাটাচ্ছে?

মসজিদ থেকে আযান এর সুর ভেসে আসছে। বহু দূরের ওই দুটো লোক এখনো দাড়িয়ে আছে। কাছের বিল্ডিং এর ছেলে দুটো এখনো বসে। বাবা তার সন্তানকে নিয়ে ঘরে চলে গেছে। বাচ্চারা তাদের মায়ের ডাকে, অনিচ্ছায় খেলার মাঠ ছেড়ে যাচ্ছে। আমার সামনে দিয়ে ৯ টা পাখি উড়ে গেল। হয়ত তাদের নীড়ে ফিরছে।

আমি এই সুন্দর দৃশ্যটা মাথায় ঢুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। যেন কখনো চোখ বন্ধ করলেই পুরো দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠে। কিন্তু আমি জানি দৃশ্যটা থাকবে না। আমি কথনো কারো চেহারাও পুরোপুরি মাথায় ধরে রাখতে পারি না। সুন্দর কোন দৃশ্য, সুখকর কোন স্মৃতিও না।

আমার শুধু ঘটনাটা মনে থাকে। ওখানে, এর সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তার সাথে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল। হয়ত ভালো একটা সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু সেই দৃশ্যটা কল্পনা করতে পারি নামাথায় আসে না। স্বপ্নের মত আবছা আবছা লাগে সব কিছু। মাথাটা পুরো খালি হয়ে যায়। মনের ভিতরটা হাঁ হাঁ করে, চিত্রটা আকাঁর জন্য।

থাক আজকের মত।
শুভ সন্ধ্যা প্রকৃতি, শুভ সন্ধ্যা।

Thursday, December 14, 2017

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতার শুরুর গল্প





১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭
বিকালঃ ৩.৫১ মিনিট

আমি ভার্সিটিতে ভর্তি হই ২০১২-২০১৩ সেশনে। ২০১৩ তে প্রথম সেমিস্টারেই আমাদের সি প্রোগ্রামিং পড়ানো হয়। তখন প্রোগ্রামিং এ এত কাঁচা ছিলাম যে, আমি ভাবছিলাম ওই কোর্সে ফেল না আসলেও ইম্পুভমেন্ট আসবে। কিন্তু ফলাফল টেনে টুনে বি। ইম্পুভমেন্ট বন্ধ। তখন সি এর বেসিক ভালোই বুঝতাম, কিন্তু কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং সর্ম্পকে ধারনা ছিল না। তবে যেহেতু ছোটকাল থেকেই গনিত ভাল লাগত, তাই প্রোগ্রামিংও ভাল লাগত। ছোটখাট ক্যালকুলেটর, গেইম বা ম্যাথের ধাঁধা সলভ করার কাজে প্রোগ্রামিং ব্যবহার করতাম। ২০১৪ এর শেষের দিকে আমাদের সি প্লাস প্লাস পড়ানো হয়, ৩য় সেমিস্টার এ। আমি তখন সি প্লাস প্লাস ভালোই পারতাম কিন্তু প্রবলেম সলভিং ব্যাপারটা ছিল না। এমনকি আমি তখন পযর্ন্ত রাজীব ভাই, মুহসীন ভাইদেরও চিনতাম না...:( 

২০১৪ এর ডিসেম্বর এর মাঝের দিকে ভার্সিটিতে “Hour of Code এর একটা অনুষ্ঠান হয়। ওইটা একটা ম্যাথের প্রতিযোগীতা ছিল। ওখানে আমি প্রথম হই। অনুষ্ঠান এর পর রাজীব ভাই আর মুহসীন ভাই এর সাথে দেখা হয়। ভাইরা আমাকে বলে, “ম্যাথ তো ভালোই পারিস, প্রোগ্রামিং কেমন লাগে?” আমি বললাম, “ভালোই তো।” তারপর শুরু হয় ভাইদের সাথে প্রোগ্রামিং এর পথে যাত্রা। মুহসীন ভাই প্রথমে প্রব্লেম সলভিং এর জন্য URI সাইটের ঠিকানা দেয় এবং কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং এর পথ দেখিয়ে দেয়। তারপর আস্তে আস্তে বেসিক, বিভিন্ন রাইটার এর ওয়েবসাইট, STL বিভিন্ন জিনিসে সাহায্য করে। কয়েক মাস করার পর রাজীব ভাইদের দেখাদেখি কোডফোর্সেস এ এক্যাউন্ট খুলি। এর পর কিছু দিনের মধ্যেই কোডফোর্সের হয়ে উঠে আমার সবচেয়ে পছন্দের ওয়েবসাইট। আমি এখন দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২-১৬ ঘন্টাই কোডফোর্সেস এ থাকি...:)

২০১৫ এর ৭ই মে আমার জীবনের প্রথম অনসাইট কন্টেস্টআমি, রাজীব ভাই, মুহসীন ভাই এর একটি টিম এবং মাহফুজ স্যার ওই টিমের কোচ। বুয়েটে কন্টেস্ট হয়। তাদের একটা ফেস্ট ছিল। BUET CSE FEST – 2015. ৮৫ টিমের মধ্যে আমরা ২১-তম হই। এর পর থেকে একসাথে আমাদের অনেক গুলা কন্টেস্ট করা হয়েছে। মুহসীন ভাই এর সাথে অবশ্য একটু কম করা হয়েছে। সম্ভত ৫-৬ টা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার এটেন্ড করা ১৫ টে অনসাইট কন্টেস্টের মধ্যে ১১-১২ টা টিমেই রাজীব ভাই ছিল। এক-একটা অনসাইট কন্টেস্ট যেন এক-একটা ট্যুর। খুবই এনজয়মেন্ট ছিল, মাঝে মধ্যে উপরি পাওনা হিসেবে ভালো একটা পজিশন। আসলেই দিনগুলো অনেক মজার ছিল...<3

পরিশেষে বলতে গেলে বলতে হয়, রাজীব ভাই বা মুহসীন ভাইদের অনুপ্রেরনা, নির্দেশনা, আর গাইডলাইন ছাড়া প্রোগ্রামিংএ এতটুকু আসতে পারতাম না। এতটুকু জানি দিনশেষে ভাইদের খুব মিস করবো...:(

Wednesday, September 20, 2017

প্রোগ্রামিং



২০ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭
রাতঃ ১.১০মিনিট
আমার বর্তমান কালের টপ প্রায়োরিটির কাজ হলো প্রোগ্রামিং। আমি দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টাই কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি। মাঝে মাঝে তার বেশির ভাগ সময়টাই কাটে প্রোগ্রামিং করে। আগে যখন ফোর্থ সেমিস্টার বা ওই সময়ে ছিলাম তখন বেশি বেশি প্রোগ্রামিং ব্লগ পড়তাম আর প্রবলেম করতাম। এখন বেশির ভাগই কন্টেস্ট করি, প্রবলেম সলভ তেমন একটা করি না। তবে এখনকার সময় গুলোতে মুভি দেখে বা গেইম খেলে বেশি সময় কাটে। এন্ডয়েড গেইমস খেলি পিসিতে। যেমন ক্ল্যাশ রয়েল, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান, রাইভাল কিংডম। তবে আমি যতটা সময়ই প্রোগ্রামিং করি না কেন, মনে প্রানে প্রোগ্রামিংকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। আমি মিড-টার্ম পরিক্ষার আগের রাত গুলাতেও কোডফোর্সেস এর কন্টেস্ট করি। আমার বেশির ভাগ প্রবলেম করা হয়েছে কোডফোর্সেস এ। তবে মাঝে মাঝে লাইটওজে বা ইউভি তেও করা হয়। কার কাছে যেন একটা কথা শুনেছিলাম, যে “আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর মূহর্ত হলে কন্টেস্টে সলিউশান সাবমিট করে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা।” আমার ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।

মুভি দেখা




২০ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭
রাতঃ ১.০৫ মিনিট
মুভি দেখা আমার একটা বড় নেশা। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা মুভি দেখে কাটিয়ে দিতে পারি। এক দিনে পাঁচ-ছয়টার উপরে মুভি দেখার অভ্যাস আমার আছে। তবে ভালো মুভি হতে হবে। আমি এখন আর্ট ফ্লিম একটু বেশি দেখি বা পছন্দ করি। বাংলা, হিন্দী, ইংলিশ যে কোন ধরনের আর্ট ফ্লিম। আর্ট ফ্লিম বলতে কাহিনী, প্রেম, ফ্রেন্ডশীপ বা ছোট্ট একটা ঘটনা কেন্দ্র করে মুভি। আগে মারামারি, গোলাগুলি, অ্যাকশন, সুপার-হিউম্যান মুভি দেখতাম। এখন আর এগুলো ভালো লাগে না। বড় হয়েছি তো, আর কত। আমার পিসিতে এখনও সাত-আটশ এর উপরে মুভি কালেকশান আছে। তার মধ্যে বেশির ভাগই দেখা। না দেখা মুভি সব সময়ই একশ এর উপরে থাকে। দেখা মুভির মধ্যে কিছু পছন্দের মুভি গুলোঃ বাংলা মুভির মধ্যে ইন্ডিয়ান বাংলা ভালো কিছু আর্ট ফ্লিম আছে, এই গুলা দেখা পড়েযেমনঃ অন্তহীন, বাইশে শ্রাবন, কাটাকুটি, খাঁদ, লোড-শেডিং, অন্য বসন্ত, রন্জনা আমি আর আসবো না, তিতলি এগুলা পছন্দের মুভি। হিন্দি মুভি তো প্রায় গুলাই ভালো। বেশি পছন্দের মুভি আছেঃ থ্রি ইডিটস, অয়েক আপ সিড, ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি। মাসান, ট্রাফিক বা এ উয়েডনেস ডে ভালো লাগে। তবে শাহরুক, আমির বা রনবীর কাপুর এর সব মুভিই পছন্দ। হলিউডের তো মুভি বেশ পছন্দ করতাম কিছু কাল আগেও। উইল স্মিথ, টম হ্যাংক, টম ক্রুজ, রুশেল ক্রু, জনি ডেপ, হিউ জ্যাকম্যান, লিউনাদ্রো ডিউক্রিপ এর প্রায় মুভিই পছন্দের। আমার হলিউডের প্রেম মুভি গুলো খুব ভালো লাগে। সব মিলিয়ে কিছু প্রিয় মুভি হলঃ টাইটানিক, সেইফ হ্যাভেন, ফরবিডেন কিংডম, ফ্লিপড, চেসিং লিবার্টি, ফরেস্ট গাম ইত্যাদি। সিরিজ গুলার মধ্যে হ্যারি পটার, এক্স-ম্যান, স্টার ওয়ার্স, ম্যামি, পাইরাটস অফ দ্যা ক্যারাবিয়ান, জেমস বন্ড ইত্যাদি পছন্দের। আমি এনিমেশন মুভি বেশ পছন্দ করি। যেমনঃ আইস এজ, ডিসপেকেবল মি, কংফু পান্ডা ইত্যাদি


শখ


২০ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭
রাতঃ ১২.৪৮ মিনিট

আমার অনেকগুলো শখ আছে। সবারই থাকে, তবে আমার একটু বেশি। তাই আজ এসব নিয়ে লিখতে বসেছি। সবার কমন কিছু শখ আছে যেমন গান শোনা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, ঘুড়ে বেড়ানো, বেশি বেশি করে ঘুমানো, মুভি দেখা কারও কারও আবার বই পড়া। আমার স্পেশাল প্রোগ্রামং করা। এগুলো আমার লাইফে কেমন প্রভাব আছে তা একটু খুলে বলিঃ

গান শোনা
গান শোনা সবারই কমন শখ। গান শোনতে সবাই পছন্দ করে। তবে আলাদা হয় গান এর ধরন। আমি বাংলা বা হিন্দি গান শুনতে পছন্দ করি। বাংলা গানের মধ্যে তাহসান, হাবিব, তাওসিফ, এফ এ সুমন, প্রিতম, মিলা, মিনার, পারভেজ, হ্রদয় খান, অর্নব, জেমস, শিরনামহীন, এশেজ, চন্দ্রবিন্দু, অনুপম রায়, অন্জ্বন দও ইত্যাদি শিল্পি বা ব্যান্ড এর গান শুনি। বর্তমানে কিছু পুরানো গানও শুনছি। হিন্দি গানের মধ্যে প্রায় গুলাই মুভির গান, অথবা সানাম, আতিফ আসলাম, প্রিতম বা অরজিৎ সিং এমন টাইপের গান শুনি। ইংলিশ গানের মধ্যে এক সময় অ্যাখন গান বেশি শুনতামএছাড়াও জাস্টিন বিবার, জেনিফার লোপেজ, টেইলর সুইফট, ওয়ান ডিরেকশান ব্যান্ড এর গান শুনা হয়।

আড্ডা দেওয়া
আড্ডা দেওয়া আমার সময় কাটানোর একটা ভাল পদ্ধতি। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি। এমন হয় রাতে বন্ধুদের সাথে শুয়েছি, আড্ডা দিতে দিতে তিন-চার ঘন্টা চলে যায়। আর ক্যাম্পাস এ তো সারা বিকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে রাতের আটটা-নয়টা বাজে আড্ডা দিতে দিতে। এমন হয় সন্ধ্যায় বসে প্রশান্ত বা আশরাফুলের সাথে গেইম নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে রাতের এগারটা বেজে যায়।

ঘুড়াঘুড়ি
ঘুড়াঘুড়ি আমার একটা ভালো শখ। আমি ঘুড়তে পছন্দ করিতবে একা একা ভালো লাগে না। বন্ধুদের সাথে ঘুড়তে ভালো লাগে। আমরা অনেক প্লান করি। এখনে ঘুড়তে যাব, ওখানে ঘুড়তে যাব। কিন্তু প্রায় সময়ই যাওয়া হয় না। তারপরও বড় ট্যুর এর মধ্যে খৈয়াছড়া ঝর্না, চাঁদপুর ট্যুর, রাঙামাটি-বান্দরবন, লালমাই যাওয়া হয়েছে। আরও প্লান আছে চাঁদপুর, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম যাওয়ার প্লান। এছাড়া কুমিল্লার আশেপাশে তো অনেক ঘুড়েছি। এয়ারপোর্ট, গোমতীর পাড়, রেল-ইস্টিশন, ধর্মসাগর পাড়, বার্ড, ব্লু-ওয়াটার পার্ক, বোদ্ধ-মন্দির, রুপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, আনন্দ বিহার, শালবন বিহার, কোটিলা মুড়া, সামাজিক বন বিভাগ, জাম্বুরা মোড়, আদিনা মুড়া। এছাড়া ক্যাম্পাসের আশেপাশে কত জঙ্গল, কত টিলা, পাহাড়ে ঘুরেছি। তবে সবচেয়ে ভাল লাগে ক্যাম্পাস। আমরা প্রায়ই বিকালে ক্যাম্পাসে ঘুড়ি। তবে রাত বারটার পর ক্যাম্পাস বা শহীদ মিনারে বসে আড্ডা দেওয়ার মজাই আলাদা। কারও জন্মদিন বা কারও ব্রেক-আপ এর সিলেব্রেশন করতে রাতে ক্যাম্পাসে ঘুড়াঘুড়ি করি।

ঘুমানো
ঘুম আমার প্রিয় বস্তু। আমি একবার ঘুমালে আর উঠতে মন চায় না। আমি সব সময় দিনের বারটা-একটার পর উঠি। এগারটায় ক্লাশ থাকলেও বিরক্ত হই। বাড়িতে গেলে হয়ত মাঝে মাঝে একটু আগে উঠি পড়ি(তাও এগরটার পরে, বাচ্চাদের চিল্লাচিল্লিতে), মাঝে মাঝে বাড়িতেও একটা-দুটা বেজে যায়। দেরিতে উঠার একটা কারনও আছে, আমি দেরিতে ঘুমাই। আমি সাধারনত তিনটা-চারটায় ঘুমাতে যাই। সকালে ক্লাশ বা পরিক্ষা থাকলে মাঝে মাঝে দুইটায় শুয়ে পড়ি। কিন্তু সব সময়ই আমার ঘুম আসতে এক-দেড় ঘন্টা লেগে যায়। মাঝে মাঝে তো দুই-তিন ঘন্টা।
আমি ঘুমানো সময় গল্প করতে পছন্দ করি। কিন্তু সব সময়ই একা একা ঘুমানো হয়। মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে ঘুমাতে গেলে দুই-তিন ঘন্টা আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দেই।

বই পড়া
আমার সবচেয়ে পছন্দের একটা কাজ হলো বই পড়া। বই পড়া আমার ছোটকালের অভ্যাস। আমি বই পড়ার এত নেশা যে, আমি পরিক্ষার আগের রাত গুলোতেও গল্প-উপন্যাস পড়ে পার করেছি। আমার মনে আছে যখন আমি সাতকাহন পড়তেছিলাম, সারাদিন পড়ে রাত চারটা-পাঁচটার দিকে ঘুমাতে গেছি, আমার ঘুম আসতেছিল না। পড়ে এক-আধ ঘন্টা পর উঠে আবার বই হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করছিলাম। হাই-স্কুল বা কলেজে আমার এই নেশাটা বেশি ছিল। এখন প্রযুক্তি এসেছে, দিয়েছে অনেক কিছু কিন্তু নিয়ে গেছে আবেগ। এখন বই পড়ার টাইম পাই না, সারাদিন তো কম্পিউটার নিয়েই পড়ে থাকি। বই পড়াটা আমার এতই ভালো লাগে যে, আমার যখন মন খারাপ থাকে, তখন একটা বই পড়া শুরু করলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়...<3


Friday, June 9, 2017

গল্প ধার





৯ই জুন, ২০১৭
রাতঃ ৯.০০ মিনিট

কেউ আমাকে একটা গল্প ধার দিবেন? আমার মাঝে মাঝে গল্প বা এ জাতীয় কিছু একটা লিখতে মন চায়। কিন্তু কিছুই লিখতে পারি না। আসলে যখন গল্প উপন্যাস পড়ি, তখন মাথায় শুধু মনে হয় একটা কিছু লিখি। কিন্তু লিখতে গেলে কিছুই মাথায় আসে না। মাথা পুরোপুরি খালি খালি মনে হয়। কেন জানি না এমন হয়।

যেহেতু কিছু একটা লিখতে মন চাচ্ছিল তা ভাবলাম একটা গল্প ধার করি। লেখকরা তো প্রায়ই অন্যের গল্প লেখেন। নিজের জিবনের কথার চেয়ে তো অন্যের গল্পই বেশি করেন। হয়ত এদের মধ্যে বেশির ভাগ গুলারই অস্তিত পৃথিবীতে নেই। কিন্তু এমন কিছু তো আছে, যার গল্প গুলো পৃথিবীর কারও সাথে বেশি মিলে যায়। অথবা অন্য একজন কে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। সেই গল্প গুলো কি ধার করা নয়?

আসলে গল্প তো সবই ধার করে লিখতে হয়। নিজের জিবনের গল্প আর কত লিখা যায়। আর লিখলেও তো ওগুলা আত্মকাহীনি হয়ে যায়। গল্প আর থাকে কোথায়? গল্প লিখতে গেলেই অন্যের জীবনের কাহিনী ধার করা।

যাক সে কথা। যা বলতেছিলাম কেউ কি একটা গল্প দেবে, কিছু একটা লিখবো...?